বার্তা পরিবেশক
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে পানির লাইন দেওয়ার কথা বলে ঘর প্রতি ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়ায় হামলার শিকার হয়েছে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইসমাইল সোহেল। গতিরোধ করে হামলা, মারধর ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে খুরুশকুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহআলম ছিদ্দিকী ও নুরুল আলমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছে হামলার শিকার ওই ইউপি সদস্য।
মামলার সূত্রে জানা যায়, খুরুশকুল ইউনিয়নের ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের সভাপতি ছিল সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাজাহান ছিদ্দিকী। জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা মামলার কারণে সেই চেয়ারম্যান আত্নগোপনে চলে গেলে। তার পক্ষ হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তারই আপনছোট ভাই শাহ আলম ছিদ্দিকী ও নুরুল আলম সহ কয়েকজন মিলে পানির লাইন দেওয়ার কথা বলে ঘর প্রতি হাজার টাকা করে আদায় করে আসছে।
স্থানীয়রা এ বিষয়ে মেম্বার সোহেলের কাছে জানতে চাইলে সেই এখানে টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম নেই বলে জানান তাদের। পরে সে এসব টাকা নেওয়ার বিষয়ে চাঁদার টাকা জমাদার স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে ও জড়িত ব্যক্তিদের থেকে খোঁজখবর নিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
এনিয়ে গত ১৬ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পথে স্থানীয় টাইম বাজারে তার গতিরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহআলম সিদ্দিকীসহ তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী। ঘটনাস্থলে শাহ আলম ছিদ্দিকী ধারালো ছুরি দিয়ে চোঁখের উপরে গুরুত্বর জখম করে ও নুরুল আলম নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন মেম্বার ইসমাইল সোহেলের। এসময় তারা জনমনে আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এতে টাইমবাজার এলাকায় প্রায় ১ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থা ওই মেম্বারকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে গত ১৭ মার্চ দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেন হামলার শিকার ইউপি সদস্য সোহেল। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অফিসার ইনচার্জ, কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এই বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহআলম সিদ্দিকীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা ওদের ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি। আমি চাঁদাবাজি করতে যায়নি। সোহেল মেম্বার চাঁদাবাজি করতে গেছে। আমি খুরুশকুল বিএনপির বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ১ হাজার টাকার জন্য কেন এসব করব। সরকারি কাজে বাঁধা দিয়েছে সোহেল মেম্বার। আমি গিয়ে কাজ চালু করছি আবার। ওখানে যে টাকা নিচ্ছে সেটা বৈধ নাকি অবৈধ আমি জানি না। আমার নামে মামলা হয়নি, অভিযোগ করছে মাত্র। তদন্ত দিয়েছে ওসি সাহেবকে। আপনারা সাংবাদিকরা সম্ভ্রান্ত ফ্যামেলির মানসম্মানি মানুষকে নিয়ে এটা ঐ করেন টা কি? একজন টুকাই এর পক্ষ হয়ে কথা বলেন। এটা করবেন ঐ টা করবেন। এটা নাকি আপনাদের সাংবাদিকতা এসময় সাংবাদিকদের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি।